certifired_img

Books and Documents

Bangla Section (13 Jun 2019 NewAgeIslam.Com)



Muslims Must Confront Islamist Terror Ideologically মুসলমানদের ইসলামী সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলা করতে হবে আদর্শগতভাবে: একটি ইসলামিক সংস্কার প্রয়োজন



Sultan Shahin, Founder-Editor, New Age Islam

সুলতান শাহীন, সম্পাদক নিউ এজ ইসলাম

জুন ২০১৫

আমরা ইসলামী সন্ত্রাসের যুগে বাস করছি বলে মনে হচ্ছে। প্যারিস-এ  সাংবাদিকদের গণহত্যা পেশোয়ার-এ  শিশুদের হত্যার ঘটনা অনুসরণ করেছে। 9/11 এর তের বছর পরে , বিশ্ব  আরো জটিল, আরও বৈচিত্র্যময় এবং আরও বিপজ্জনক আপদের  সম্মুখীন হচ্ছে। যদিও বিশ্ব  সন্ত্রাসীদের সাথে সামরিকভাবে লড়াইয়ের দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ করেছে, তবুও  মতাদর্শগত ভাবে তাদের কে  চ্যালেঞ্জ করা যায় নি ।


জিহাদিরা সহিংসতার সম্পূর্ণ ধর্মতত্ত্ব, ঘৃণা ও অসহিষ্ণুতার  সুসংগত আখ্যান তৈরী করেছে যা সর্বগ্রাসী আর ফ্যাসিবাদের  সগোত্র।  এ ধর্মতত্ত্ব সংখ্যালঘু মুসলমান তরুণদের আকৃষ্ট করতে আর তাদেরকে সমবেদনা ও দয়ার মানব প্রবৃত্তি গুলির প্রতি অসমবেদনশীল করতে সক্ষম। সাধারণত, আত্মহত্যার জন্য কাউকে প্ররোচিত করা বিশ্বের সবচেয়ে কঠিন কাজ হওয়া উচিত। কিন্তু যখনি ও যেখানেই কৃতসংকল্প ও সম্পদ্শালী গোষ্ঠীর প্রয়োজন হয়ে আত্মাঘাতী বোমা হামলার সেনাবাহিনী মুসলিম সমাজ থেকে উদ্ভূত হয় যারা অবর্ননীয় ও নিষ্ঠুর ক্রুরতার প্রমান দেয়।   


সুস্পষ্টরূপে এটা  ইসলামী আইডিওলজির আকর্ষণ ও শক্তির জন্যই সম্ভব  হয়েছে যেটা হাজার বছর ধরে মুসলমানদের মধ্যে ইসলামের ব্যাখ্যার থেকে সম্পূর্ণভাবে ভিন্ন।  সুফীমতের  প্রভাবে  মুসলমানরা একটি উদার ও  সহনশীল ধর্মে গর্বিত যেটা পূর্ববর্তী ধর্মগুলিরই  পুনরাবৃত্তি। মুসলিমরা  বিশ্বাস করে যে তাদের ধর্ম মানবতার জন্যে একটি উপহার।


সুতরাং, যখন শেষ শতাব্দীর শুরুতে সৌদি-ওয়াহাবী রাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সাথে সাথেএকটি  বিশেষত ইসলামের অসহিষ্ণু ব্যাখ্যা   প্রচার করা শুরু হয়, তখন মুসলমানরা তা  প্রত্যাখ্যান করে। কিন্তু বিষ্ময়কর তেল সম্পদ এবং ঠান্ডা যুদ্ধের প্রয়োজনীয়তাগুলি দ্রুততর  এই মতাদর্শে কে ছড়িয়ে দেয়।   এমন কি 9/11 এর পরেও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই প্রক্রিয়াটিকে বাধা দেয়নি। বরং সন্ত্রাসীদের উন্নতিতে এটি বেশ কয়েকটি নতুন এলাকা তৈরি করেছে।


যাইহোক, দ্রুত র্যাডিকালাইজেশনের সত্ত্বেও, এখনও অনেক মুসলিম সুফি ঐতিহ্যগুলিতে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাসী  রয়েছেন, যারা ইসলামকে পরিত্রাণের একটি আধ্যাত্মিক পথ মনে করেন আর একে অনুসরণ করার জন্য একটি নৈতিক  মান বিবেচনা করেন। 


তারা আধুনিকতা,  বহুসংস্কৃতির সহাবস্থান , লিঙ্গ সমতা এবং গণতন্ত্রের উপর বিশ্বাস করে। পয়গম্বর মোহাম্মদ  সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর উম্মত কে  উম্মতন বস্তা বলে ডাকতেন তার মানে এটি একটি মধ্যপন্থী এবং সুষম সম্প্রদায়, । ইসলামী ইতিহাস জুড়ে মুসলমানদের মধ্যে চরমপন্থীরা বিদ্যমান রয়েছে । কিন্তু অবশেষে, শান্তি প্রেমী  সংখ্যাগরিষ্ঠ গোষ্ঠী সবসময় তাদের কে পরাজিত করেছে।আশা করছি, আমরা শক্তিশালী পেট্রোডোলার ইসলাম এবং তার অফশট জিহাদবাদকেও পরাজিত করব। কিন্তু এই কাজ করা  সহজ নয় । মধ্যপন্থী  মুসলমানরা একটি কঠিন কাজের  সম্মুখীন । সুফি  সন্ন্যাসী রা মধ্যপন্থী, মরমীবাদী  ইসলামের বিস্তারের জন্য যে পদ্ধতি ব্যবহার করেছিলেন তা   ইন্টারনেট যুগে কাজ করতে পারে না। সুফিরা ইসলামের ইতিবাচক শিক্ষার উপর গুরুত্বারোপ করতেন এবং বাকিদের  উপেক্ষা করতেন। কিন্তু তথ্যগুলি কে  লুকিয়ে রাখা এই যুগে সম্ভব নয়।  মধ্যপন্থী  মুসলমানদের নতুন কৌশল খুঁজে বার করতে  হবে । আমি বিশ্বাস করি যে মধ্যপন্থীরা মৌলবাদী মতাদর্শের সমস্ত বিকৃতি গুলিকে  উন্মোচিত করার দায়িত্ব পালন করবেন, তাকে অস্বীকার করবেন এবং ইসলামের নৈতিক শিক্ষার উপর গুরুত্ব আরোপ করবেন । মুসলিম কল্পনাকে কৌশলে ধরতে  জিহাদিবাদের বিশাল সাফল্য অন্যদের মধ্যে নিম্নলিখিত মূল বিশ্বাসের মধ্যে নিহিত রয়েছে। :


ক) কয়েক শতাব্দী ধরে  উলেমারা মুসলমানদের কুরআনের সম্পর্কে একটি প্রশ্নাতীত বিশ্বাস গড়ে তুলতে উৎসাহিত করেছে যে কোরান আল্লার মতোই অ-সৃষ্ট , দৈব বই।


এটি একটি বিপজ্জনক বিবৃতি । কুরআন যদি সৃষ্টি হয়, অর্থাৎ যদি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে প্রয়োজনমতো  আয়াত সমূহ  উন্মোচিত করা হয়েছে  তবে আয়াতের প্রসঙ্গগুলি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠে এবং শুধুমাত্র  যে আয়াত গুলি কোনো  প্রেক্ষাপটের   প্রয়োজন  রাখে না  সার্বজনীন প্রযোজ্যতা ধারণ করে । কিন্তু যদি এটি অসৃষ্ট  হয়, যা  সকল মাদ্রাসা গুলি  শিক্ষা দেয়, তখন প্রতিটি আয়ত  শাশ্বত হয়ে ওঠে  এবং প্রেক্ষাপটে র  রেফারেন্স ছাড়া অনুসরণ করা হবে । আয়তের অপরিহার্য ও গঠনমূলক অংশ আর বর্ণনাপ্রাসঙ্গিক ও নির্দেশমূলক অংশের মধ্যে  পার্থক্যটা ই  হারিয়ে যায় আর চরমপন্থী মতাদর্শীদের পক্ষে বর্ণনাপ্রাসঙ্গিক কে অপরিহার্য হিসেবে আর নির্দেশমূলক কে গঠন মূলক  হিসাবে অপব্যবহার করা সহজ হয়ে যায়। তাই আমাদের সকল মাদ্রাসা  গুলি   যারা কুরআনের  অসৃষ্টতার প্রচার করে তারা মৌলবাদী আলেমগণ তৈরি করে যারা  তাদের বুদ্ধি  প্রয়োগ করা জরুরি মনে করে না। সুতরাং, কোরান যদি  কোনো পরিপ্রেক্ষিতে বলে যে কাফির দের  কে মেরে দাও, তারা গিয়ে কাফির দের  কে মেরে দেবে যদিও  সে আয়তটি এক বিশেষ ইতিহাসিক পরিপ্রেক্ষিতেই প্রাসঙ্গিক আর ওই যুগেই প্রযোজ্য ছিল। আশ্চর্যের কিছু নেই যে সকল জিহাদি মতাদর্শীরা  কুরআন শরীফের বেশ কয়েকটি যুদ্ধপ্রি় আয়াতগুলি  আত্মপক্ষ সমর্থনে করেছেন এবং অতিসরল মৌলবাদীদের মতদীক্ষাদানের জন্য  তাদের ব্যবহার করেছেন। সেই জন্য আশ্চর্য্যের কিছু নেই যে তাদের কাছে হত্যাকারীদের একটি ফৌজ নিষ্পাপ ও বেকসুর পুরুষ, নারী আর শিশুদের কে  মারার জন্য আত্মঘাতী  হামলা করবার জন্যে সবসময়ে প্রস্তুত থাকে।তাদের বিশ্বাস যে এই ভাবে তারা শীঘ্রই স্বর্গের অধিকারী হবে ।


খ ) হাদিস বা পয়গম্বর সাহেবের তথাকথিত বাণীকে গভীর ভাবে শ্রদ্ধা করা হয়ে। জিহাদী সাহিত্যে  তাদের উদ্দেশ্য পূরণের জন্য অনেকগুলি  সম্ভাব্য গড়া হাদীসগুলির ব্যবহার করা হয়ে । নবীর মৃত্যুর তিন শত  বছর পর সংকলিত হওয়া হাদিসগুলি নবীর প্রামানিক কথা বলে বিশ্বাস করা যেতে পারে না। যদিও ইটা সম্ভব যে পয়গম্বর সাহেব  কিছু হাদীসগুলিতে বর্ণিত কথাগুলির মতো কিছু বলে থাকতে পারেন। এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই যে, বেশিরভাগ সম্ভাব্য গড়া হাদীসগুলিকে বেকসুর নাগরিকদের এলোপাথাড়ি হত্যা কে ন্যায্যতা প্রতিপাদন করার জন্য ব্যবহার করা হয়ে। আর এ কে এখন সমান্তরাল ক্ষতির আখ্যা দেওয়া হয়ে।( উদাহরণ স্বরূপ, বুখারী ভলিউম 004 / বুক 05২, হাদিস 256 বা 019/4321), যদিও অনেকগুলি হাদিস রয়েছে যাতে কোনো পরিস্থিতে এই ধরনের হত্যা নিষিদ্ধ আছে।প্রকৃতপক্ষে অন্য হাদীস (উদাহরণস্বরূপ বুখারী, 0২1/010 (মুওয়াব)  কেবল "নারী বা শিশু বা বয়স্ক, দুর্বল ব্যক্তি, কে হত্যা করা নিষিদ্ধ করে বরং  গাছ কাটতে, বাসস্থান ধ্বংস করতে, খাবারের উদ্যেশ্য ছাড়া পশু বা উঁট কে মারা, বা  মৌমাছি পোড়াতে এবং তাদের ছত্রভঙ্গ করতে" নিষিদ্ধ করে। যখন আল্লাহ  রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর শেষ দিনগুলোতে  আমাদের ধর্মকে পরিপূর্ণ করেদিলেন  (কুরআন 5: 3), তখন শতাব্দী পরে হাদিসের মত নতুন ধর্মগ্রন্থ তৈরির করার আমরা কে ?


গ) সকল গোষ্ঠীর মুসলিম পণ্ডিত রা  শরিয়াহকে ঐশ্বরিক পদমর্যাদা  দান করেন। আসলে এটি একটি মানুষের তৈরি শরীরের আইন,সমূহ যা নবীর দেহাবসানের শত বৎসর পর উলামারা সংহিতাবদ্ধ করেছেন যা নবীর দেহাবসানের শত বৎসর পর উলামারা সংহিতাবদ্ধ করেছেন আর সময়ের সাথে পরিবর্তনশীল। এটার দৈবিক হবার  কোন প্রশ্ন নেই। ইসলামের সম্মুখে সমস্যা  স্পষ্টতই গভীরতর। এই সমস্যাগুলি ইসলামের ক্ষেত্রে মৌলিক অরে বুনিয়াদি। কিন্তু উলেমা,যারা ইসলামের রক্ষী এই সমস্যাগুলিকে  অস্বীকার অস্বীকার করেন।


এখন  সমাজ কি করছে ? আমি মনে করি যে প্রথমে   বিশ্বের জানা দরকার যে মুসলমান সম্প্রদায়ের মধ্যে কি ঘটছে। আমাদের কে মৌলবাদের  পরিমাণ খুঁজে বের করতে বিশ্বাসযোগ্য সার্ভে করতে হবে ,


শুক্রবার এর বক্তৃতা মনিটর করতে হবে , বিভিন্ন্য মাদ্রাসার পাঠপুস্তক এর অধ্যয়ণ করতে হবে এবং এখানে উত্থাপিত মৌলিক প্রশ্ন গুলিকে নিয়ে উলেমা দেড় সঙ্গে মুখোমুখি হতে হবে।যদি উলেমাগন  সত্যিই ইসলামকে সন্ত্রাসবাদের সমার্থক বলে প্রচার না চান তা হলে তাদের  অন্তত নিম্নলিখিত সাধারণ ঘোষণাগুলি করা উচিত, যা এই ধর্মের  সাথে ও সামঞ্জস্যপূর্ণ:


কুরআন হ'ল আল্লাহর সৃষ্টি,  স্বয়ং আল্লাহ নয়।

কুরআনে বর্ণনাপ্রাসঙ্গিক,বিশেষত জঙ্গি আয়াত গুলি,মুসলমানদের জন্য আর প্রযোজ্য নয়;

হদিস কুরআন এর মতো ধর্ম গ্রন্থ নয়।

শরিয়াকে ঐশ্বরিক বলে বিবেচনা করা যায় না।

উলামাগণ, বুদ্ধিজীবী এবং রাজনীতিবিদরা এই পর্যন্ত যা কিছু করেছেন সেটা একটি উপরিগত প্রচেষ্টার চেয়ে বেশি কিছু নয়। তারা আশা করছে এবং সম্ভবত প্রার্থনা করছেন যে এই সমস্যাগুলি নিজেই মিতে যাবে। কিন্তু মৌলবাদ  গভীর এবং তীব্র তর তর হয়। এটা  আরো নতুন সদস্য  আকৃষ্ট করছে। তাই পরিষ্কারভাবে মুসলিম ধর্মতত্ত্ববিদদের বহিরঙ্গ  বিবৃতি অতিক্রম করতে হবে। যদি তারা চান যে ইসলাম এক মধ্যপন্থী ধর্ম একটি নৈতিক মান, এবং পরিত্রাণের একটি আধ্যাত্মিক পথ  হিসেবে বিদ্যমান থাকুক আর ইসলামিক গ্রন্থগুলি উগ্রবাদী ম্যানুয়েল এ পরিবর্তিত না হয়ে যায় তা হলে যুক্তিসিদ্ধতার দিকে এগিয়ে যেতে হবে, শান্তি এবং মধ্যপন্থার একটি সুসঙ্গত ধর্মতত্ত্ব প্রস্তুত করতে হবে এবং মুসলমানদের মধ্যে এটি প্রচার করতে হবে । যদি উলামাগণ শান্তির পথে হাঁটে রাজ্যে না হন তাহলে বৃহত্তর সমাজকে অবশ্যই, মধ্যপন্থী  , প্রগতিশীল মুসলমানকে উত্সাহিত করা উচিত যারা এই প্রক্রিয়ায়  নিজের মাথার কোরবানি দিতে রাজি। এই গোষ্ঠী উলামাগণ  কে তোয়াক্কা না করে  নিজের সম্প্রদায়ের কাছে  সরাসরি  যেতে সক্ষম হবে এবং সদ্বিবেচনা  জন্য প্রচার কাজ চালাবে।


URL for English article: http://www.newageislam.com/islam,terrorism-and-jihad/sultan-shahin,-editor,-new-age-islam/muslims-must-confront-islamist-terror-ideologically--an-islamic-reformation-required/d/100918 

URL: http://www.newageislam.com/bangla-section/sultan-shahin,-founder-editor,-new-age-islam/muslims-must-confront-islamist-terror-ideologically--মুসলমানদের-ইসলামী-সন্ত্রাসবাদ-মোকাবেলা-করতে-হবে-আদর্শগতভাবে--একটি-ইসলামিক-সংস্কার-প্রয়োজন/d/118868

 

New Age Islam, Islam Online, Islamic Website, African Muslim News, Arab World News, South Asia News, Indian Muslim News, World Muslim News, Women in Islam, Islamic Feminism, Arab Women, Women In Arab, Islamophobia in America, Muslim Women in West, Islam Women and Feminism





TOTAL COMMENTS:-    


Compose Your Comments here:
Name
Email (Not to be published)
Comments
Fill the text
 
Disclaimer: The opinions expressed in the articles and comments are the opinions of the authors and do not necessarily reflect that of NewAgeIslam.com.

Content