certifired_img

Books and Documents

Bangla Section (03 Nov 2019 NewAgeIslam.Com)



The Impending Babri Judgment: আসন্ন বাবরি রায়: মুসলমানদের কেন এই মামলার পরিসমাপ্তির জন্য তাদের কিছু মূল ধর্মীয় বিশ্বাসগুলিকে নিয়ে প্রশ্ন করা উচিত



আরশাদ আলম, নিউ এইজ ইসলাম

 

03 November 2019

 

কম-বেশি স্পষ্ট যে বিতর্কিত বাবরি মসজিদ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট খুব শিগগিরই রায় দেবে। সাম্প্রতিক এসসি রায  গুলি কে দেখে বলা যেতে পারে যে  আদালত এই রায় আর বিলম্ব করবে বলে সম্ভাবনা কম। সাম্প্রতিক রায়গুলি আমাদের একটি ধারণা দিয়েছে যে রায়টি কোন দিকে jabe  তবে, এসসি এখনও নিরপেক্ষ বলে ধরে নিলে, সর্বোচ্চ আদালতমুসলিম দলেরপক্ষে বাহিন্দু দলেরপক্ষে  রায় দেবে। এটি উভয় পক্ষকেই সমান্তরাল করে তুলতে পারে না কারণ এটি ছিল স্পষ্টতই এলাহাবাদ হাইকোর্টের রায়ের স্পিরিট যা এসসি ইতিমধ্যে প্রত্যাখ্যান করেছে। এবার, শিরোনাম মামলা একবারে  নিষ্পত্তি হবে।


আমরা এও যেন  ভুলে  না যাই যে আমরা এমন একটি মসজিদ সম্পর্কে কথা বলছি যা পুরো  টিভি ক্যামেরাগুলির সামনে  ধ্বংস হয়েছিল। রাজনৈতিক নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে যারা এই কাজে সাহায্য করেছে কিন্তু ওই সব  সমস্ত মামলা আজ অমীমাংসিত পদে যাচ্ছে  যারা মসজিদটি ধ্বংস করতে জনতাকে উৎসাহিত করেছিল তারা দেশের সর্বোচ্চ পদে বসে আছে আদালতের মধ্যে যে বিষয় টি পরিপক্কতা অর্জন করেছে  তা মসজিদটির আপরাধিক   ধ্বংস নয়, বরং  মসজিদটি প্রথমে মুসলমানদের অন্তর্ভুক্ত কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন।

এটা নিশ্চিত যে রাই খুব শিগগিরই আসবে।  সেজন্য  মুসলমানরা তাদের এক বিশেষ প্রতিক্রিয়ার সাথে প্রস্তুত থাকা উচিত।  মুসলমানরা  এসসি রায় মেনে চলবে তা বলা খুব ভাল, তবে এটি একটি সত্য যে এটি মুসলমানদের জন্য একটি আবেগপূর্ণ বিষয়।


মুসলমানদের জন্য এই মামলার  পরিসমাপ্তি আইনী রায় প্রদানের মাধ্যমে আসবে  না, বরং   ইস্যুটির সুচিন্তিত প্রতিক্রিয়া দ্বারাই এটা সম্ভব দুটি সম্ভাবনা রয়েছে যার মধ্যে রায় আসতে পারে এবং মুসলমানদের এই উভয় সম্ভাবনার প্রতিক্রিয়া  দিতে প্রস্তুত থাকতে হবে।

প্রথম সম্ভাবনাটি ' এসসি মুসলমানদের পক্ষে রায় দেবে সম্প্রদায়ের মধ্যে অবশ্যই আনন্দের ঢেউ  উঠবে  যে একটি ঐতিহাসিক  অন্যায়টি দেশের সর্বোচ্চ আদালত স্বীকার করেছেন। যাইহোক, যদি এটি হয় তবে মুসলমানরা কী করবে? তারপরে কি তাদের দাবি করা উচিত যে মসজিদটি যেখানে ছিল সেখানে একই স্থানে একটি মসজিদ তৈরি করা হোক ? ব্যবহারিকভাবে বলতে গেলে, আইনটি যদি মুসলমানদের পক্ষে থাকে তবে তারা একই সাইটটিতে মসজিদ নির্মাণ করতে সক্ষম হবেন না। কারণ রাম মন্দির হিন্দুদের কাছেও একটি সংবেদনশীল বিষয় এবং তারা কখনই এটি হতে দেবে  না। মুসলমানরা যদি এই ইস্যুতে চাপ দেয়, তবে দেশকে খুব বড় মূল্য দিতে হবে। এছাড়াও, আজ কের  রাজনৈতিক পরিপ্রেক্ষিতে , এটি মুসলমানদের পক্ষে ধ্বংসাত্মক হতে পারে।


সুতরাং, একটি অনুকূল রায় ক্ষেত্রে, মুসলমানদের অবশ্যই রায় স্বাগত জানাতে হবে, তবে তাদেরও এই জমি হিন্দুদের উপহার দেওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। এটি করার সময়, তাদের অন্যদিকে কোনও শর্ত রাখা উচিত নয়; তাদের কেবল খাঁটি সদিচ্ছার কাজ হিসাবে জমিটি উপহার দেওয়া উচিত। জাতীয় কাজটি কাপুরুষোচিত কাজ হবে না; বরং এটি শক্তির অবস্থান থেকে হবে। এই অঙ্গভঙ্গি ভারতে হিন্দু-মুসলিম সম্পর্কেরও এক গুরুত্বপূর্ণ দিশা  হতে পারে, যা বর্তমানে বেশ কয়েকটি  কারণে অত্যন্ত সংবেদনশীল।


দ্বিতীয় সম্ভাবনা ' আদালত  মন্দিরের পক্ষে রায় দেয়। মুসলমানদের অবশ্যই এই ঘটনার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে যেহেতু এটি সম্ভবত এই কয়েক দশক পুরানো মামলার সবচেয়ে সম্ভাব্য ফলাফল। এই দৃশ্যে, মুসলমানদের কাছে সম্পূর্ণ দৃঢ়তার  সাথে আদালতের রায়কে স্বাগত জানানো ছাড়া কোনও বিকল্প থাকবে না। মুসলমানদের মধ্যে এমন কিছু শ্রেণী  রয়েছে যারা এই মামলা-মোকদ্দমার পরিণতি হলে অবসন্ন মনে হতে পারে। এর কারণের একটি অংশ মনে হচ্ছে যে তারা নিশ্চিত যে আইনটি তাদের পক্ষে রয়েছে। তবে, এই জাতীয় মামলাগুলি বেশিরভাগ রাজনৈতিক বিবেচনায় পরিচালিত হয় এবং উচ্চ আদালতের রায়টি রাজনৈতিক বিবেচনায়ও চালিত হওয়ার সম্ভাবনা খুব বেশি। নির্মমতার সাথে বলতে গেলে মুসলমানদের স্বেচ্ছায় জমি ছেড়ে দেওয়া ছাড়া আর কোন উপায় নেই।  তারা মামলাটি জিতুক বা হেরে যাক , মুসলমানদের সেই জমি যেখানে একসময় বাবরি মসজিদ দাঁড়িয়ে ছিল ছেড়ে দেওয়া উচিত। এমনকি যদি সততা আন্তরিকতার সাথে করা হয়, তবে এটি মুসলমানদের জন্য ইস্যুটির পরিসমাপ্তির উদ্দেশ্যে   যথেষ্ট হবে না।


মুসলিম বিশ্বাসের প্রকৃতি এবং আমরা কোথায় এবং কীভাবে অতীতে ভুলত্রুটি করেছি তা নিয়ে অন্তর্দর্শন ছাড়া বাবরি মসজিদের ইস্যুটির পরিসমাপ্তি হতে পারে না মুসলিম রাজনৈতিক জীবনের বৃহত্তর অংশের জন্য, আমরা এমন পদক্ষেপ গুলি নিয়েছি  যা বহুবিত্তবাদের নীতি আইনের শাসনের বিরোধী ছিল। মুসলমানরা ধর্মনিরপেক্ষতার আড়ালে নিজেদের জন্য ব্যতিক্রমী সুযোগ-সুবিধার দাবি করেছে। আমাদের কেবল শাহ বানো আন্দোলনের যুগে  ফিরে যেতে হবে এবং মুসলমানরা রাষ্ট্রের সম্মুখে  যে ধরণের রাজনৈতিক দাবী করেছিল তা দেখতে হবে। মুসলিম নেতৃত্ব আসলে সংসদ এবং এ দেশের সর্বোচ্চ আদালতকে বলেছিল যে তারা নিজের ধর্মীয় আইন অনুসারে বাঁচতে চায়। সংক্ষেপে, ব্যক্তিগত আইন সংশোধন করে দেশ যে আইনসুলভ অগ্রগতি অর্জন করতে চেয়েছিল তা মুসলিম নেতৃত্বের দ্বারা ইসলামবিরোধী হিসাবে দেখা হয়েছিল; কেবল ধর্মীয়রা নয়, তথাকথিত রাজনৈতিক ‘ধর্মনিরপেক্ষ’ মুসলিম নেতারাও। যদি একটি সম্প্রদায়, যা বৃহত্তম সংখ্যালঘু, তার নিজস্ব আইন অনুসারে জীবনযাপন করার সিদ্ধান্ত নেয় এবং অন্যদিকে সংখ্যাগরিষ্ঠ সম্প্রদায়ের ধর্মীয় আইনগুলির মধ্যে একটানা সংস্কার হতে থাকে , তবে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের এবং তার অনুভূতি ধার্মিক বিশেষাধিকারের  বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া হতে বাধ্য।

 

মুসলমানরা যদি তর্ক করেন যে তাদের বিশ্বাস সংবিধানের উর্দ্ধে  (যেমন তারা শাহ বানোর রায়কালে করেছিলেন),তবে হিন্দুদের ও এই  যুক্তি দিতে কে  বাধা দেবে  যে বাবরি মসজিদ যে স্থানে একসময় দাঁড়িয়েছিল, সেখানে মন্দিরের অস্তিত্ব ছিল কেন না এটাই তাদের বিশ্বাস। সংখ্যালঘু হিসাবে, মুসলমানদের উচিত ছিল  আগে আইনের শাসন এবং সাম্যের উপর প্রথম বিশ্বাস করা। তাদের সবার আগে সবার জন্য সাংবিধানিক গ্যারান্টি নিয়ে লড়াই করা উচিত ছিল। কিন্তু  আমরা দেখেছি যে মুসলমানদের  কাছ থেকে যা প্রত্যাশা ছিল ওরা  তার বিপরীত কাজ করেছে। এটা সত্য  যে বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশ এর পিছনে  কারণ রয়েছে, তবে এর কারণগুলির অনুসন্ধানের ফলে মুসলিম  উগ্র ধর্মীয় মানসিকতার  ভূমিকা সামনে আসবে ।

 

মুসলমানরা যেভাবে আচরণ করেছিল তার কারণগুলির একটি হচ্ছে এই বিশ্বাস  যে ইসলাম সর্বকালের জন্য উপযুক্ত। এই ধরণের চিন্তাভাবনার সমস্যা এই যে এই মানসিকতা  কোনো  ধরণের সংস্কারের জন্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিরোধী। তদুপরি, কুরআন ও হাদীসের মাধ্যমে ইসলাম কে বোঝা যায় এবং তাই যুক্তি দেওয়া হয় যে, এই ওহীর প্রকৃতি বা তাদের প্রাসঙ্গিকতা সম্পর্কে বর্তমান প্রসঙ্গে কোন বিতর্ক হতে পারে না। শতাব্দীর পর শতাব্দী জুড়ে মুসলমানরা অন্যান্য ধর্ম বিশ্বাসের ঐতিহ্যের   চেয়ে তাদের ধর্মগ্রন্থের  শ্রেষ্ঠত্বকে বিশ্বাস করেছে। এমন একটি প্রেক্ষাপটে যেখানে বৃহতন্ত্রবাদী ধর্ম বিশ্বাস করে যে একই সত্যের একাধিক পথ রয়েছে, ইসলাম এখনও অবিরতভাবে বলে চলেছে যে তাদের একমাত্র মুক্তির পথ। তারা বিশ্বাস করেই চলেছে যে মুসলমানরা বাদে বাকি সবাই  জাহান্নমে যাবে । এই ব্যাখ্যাটি কেবল বিশ্বাস করে না যে অমুসলিমরা বিপথগামী, বরং  এটি বিশ্বাস করে যে তারা তাদের ধর্মীয় বোঝাপড়ার দিক থেকে নিকৃষ্ট। এই জাতীয় মনোভাব সংখ্যাগরিষ্ঠ সম্প্রদায়ের মধ্যে একটি প্রতিক্রিয়া তৈরি করতে বাধ্য। বাবরি ইস্যুর এবং  এমন আরও অনেক ইস্যু সত্যিকারের পরিসমাপ্তি তখন ই ঘটবে যখন   মুসলমানরা সত্যিকার অর্থে কিছু মৌলিক ধর্মীয় ম্যাথ  গুলিকে প্রশ্ন করতে  শুরু করবে। আমরা এই তথ্য স্বীকার করেই শুরু করতে পারি যে ইসলাম কেবল সত্ত্বের সন্ধানের অনেক পথের মধ্যে একটি পথ  এবং আরও অনেক ধর্মীয় বিশ্বাস রয়েছে যা অনুসন্ধান এবং অনুকরণের জন্য সমানভাবে যোগ্য।

 

English Article:   The Impending Babri Judgment: Why Muslims Must Question Some of Their Core Religious Assumptions for True Closure

 

URL: http://www.newageislam.com/bangla-section/sultan-shahin,-founder-editor,-new-age-islam/the-impending-babri-judgment--আসন্ন-বাবরি-রায়--মুসলমানদের-কেন-এই-মামলার-পরিসমাপ্তির--জন্য-তাদের-কিছু-মূল-ধর্মীয়-বিশ্বাসগুলিকে--নিয়ে-প্রশ্ন-করা-উচিত/d/120166

 




TOTAL COMMENTS:-    


Compose Your Comments here:
Name
Email (Not to be published)
Comments
Fill the text
 
Disclaimer: The opinions expressed in the articles and comments are the opinions of the authors and do not necessarily reflect that of NewAgeIslam.com.

Content