certifired_img

Books and Documents

Bangla Section (03 Oct 2019 NewAgeIslam.Com)



Has the Time Come for islam to Go Local? আরব সাম্রাজ্যবাদ বনাম ইসলামী সংখ্যাধিক্য সমর্থক এলাকা ভিত্তিক জীবন ব্যবস্থায় ইসলামের উপর আমল করার সময় কি আগত?

 

সুলতান শাহীন, ফাউন্ডিং এডিটর'স নিউ এজ ইসলাম

ফেব্রুয়ারি 9 2019

একজন তুর্কি আইনজীবী ও একজন পন্ডিত ব্যক্তির প্রস্তাব অনুযায়ী দেশের মুসলমানদের আরবি ভাষার পরিবর্তে তুর্কি ভাষায় নামাজের দাওয়াত দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হবে। তাদের রিপাবলিকান পিপলস পার্টি এ কারণেই অনেককেই পার্টি থেকে বহিষ্কার করে দিয়েছেন যদিও ওই পার্টি যখন শাসন ক্ষমতায় ছিল এখন অবশ্য বিরোধী দলে আছেন আজান তুর্কি ভাষাতেই দেওয়া হতো।

কেবল আজানই নয় বরং ১৯৩২ থেকে ১৯৫০ সময় অবধি নামাজেও তুর্কী ভাষায় আদায় করা হতো কিন্তু মুসলমানদের মন-মগজে আরবির মর্যাদা এমন গভীর ছিল যে এই ফয়সালা কার্যকরী হতে পারেনি এবং ১৯৫০  যখন এই পার্টি নির্বাচনে পরাজিত হয়ে ক্ষমতা হারালো তখন এই ব্যবস্থাকে বাতিল ঘোষণা করা হলো।

ইস্তাম্বুলের এক মসজিদে ১৯ শে মার্চ ১৯২৬ তারিখে প্রথম যেদিন তুর্কি ভাষায় আজান দেওয়া হলো  সেদিন রমজান মাসের প্রথম জুমার দিন ছিল ইমাম কামালউদ্দিন আফিন্দী নামাজের ইমামতি করছিলেন তিনি লক্ষ্য করলেন অধিকাংশ মানুষই নামাজ সম্পন্ন না করেই নামাজ ছেড়ে বেরিয়ে গেছেন।

স্থানীয় ভাষায় নামাজের সমস্যা তখনই প্রকাশ্যে এলো যখন ইসলাম আরব সীমানা ছাড়িয়ে শাসানি সাম্রাজ্যে প্রবেশ করলো। সপ্তম শতাব্দীর অর্ধ ভাগে যখন ইসলাম ইরানের মধ্যে ফুলে-ফেঁপে বড় হচ্ছিল তখন পারস্যের জনগণ তাদের নিজস্ব ভাষায় নামাজ আদায় করার দাবি তুলল।

ভাষার প্রতিবন্ধী কথা

এ এক শুভ সূচনা এবং কোরআনের নির্দেশ এর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ পূর্ণও বটে যে নামাজ সেই ভাষায় আদায় করা হোক যা লোকেরা বুঝতে পারে। কোরান বলে আল্লাহর পয়গম্বর দুনিয়ার বিভিন্ন অংশে নিয়োজিত করা হয়েছে যারা তাদের স্থানীয় ভাষায় আল্লাহর পয়গাম পৌঁছে দিয়েছেন আল্লাহ কোরআনে আরবকে বিশেষ ক্ষমতাধর হিসেবে কোন মর্যাদা দান করেন নাই এর উপরে ফকিহদেরও মতবাদ সেরকমই ইমাম মালিক বিন আনাস ইমাম মোহাম্মদ শাফি ইমাম আহমদ বিন হাম্বল এবং সমস্ত আরব গন এই দৃষ্টিভঙ্গির বিরোধিতা করেছেন।

হানাফী মাযহাবের প্রতিষ্ঠাতা এবং একজন প্রখ্যাত পারস্য জাতীয় ফকিহ ইমাম আবু হানিফা পরিবর্তনের পক্ষে সমর্থন করেছেন কিন্তু তার কয়েকজন শিষ্য তার সঙ্গে একমত হতে পারেননি।

হানাফী ফেকাহকে ষোড়শ শতাব্দীতে তুরকির উসমানি শাসকবর্গ সরকারিভাবে স্বীকৃতি দিয়েছিলেন দক্ষিণ এশিয়া এবং পশ্চিমা দেশের বহু মানুষ এই মাযহাবের অনুসরণ করতেন কিন্তু এখনো পর্যন্ত স্থানীয় ভাষায় নামাজ আদায় করার ব্যাপারটা কার্যকারী করা সম্ভব হয়নি।

ভাষার চাপের দুটি কারণ আছে

১) স্থানীয় সংস্কৃতির উপর গর্ব ২) খোদার সাথে নৈকট্য লাভের ইচ্ছা।

কোরআন মজীদে কেবল আল্লাহই নয় বরং তার শেষ নবী মুহাম্মদ ও তার শেষ ভাষণে পরিষ্কার করে দিয়েছেন যে অন্যের উপর আরবদের কোনো শ্রেষ্ঠত্ব নেই কিন্তু সাম্রাজ্যবাদী উদ্দেশ্য সাধনের জন্য আরবি ভাষার ব্যবহারকারী আরবরা না কেবল অন্যের উপর নিজেদের ভাষা চালাবার চেষ্টা করেছে বরং তাদের পোশাক-পরিচ্ছদ শিল্প-সংস্কৃতি কৃষ্টি-কালচার ইত্যাদিও অন্যের উপর চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছে যার ফলে ভারতবর্ষের কিছু ওলামা নিজেকে আরব রুহানি ব্যক্তিত্বের গোলাম এমনকি আরবদের কুকুর বলাতেও গর্ব অনুভব করতেন।

আমার প্রশ্ন

তাহলে কি এর অর্থ এটাই যে ইসলামের নিজস্ব কোনো এলাকাভিত্তিক রং রূপ নেই?না বরং ভারতীয় ইসলামের বৈশিষ্ট্য এমন যার সাথে আরব কালচারের তুলনা করা যায় না উদাহরণস্বরূপ আমাদের জাতপাতের ব্যবস্থা আমাদের এখানে পণপ্রথার রীতিনীতি বিবাহিতা মহিলাদের টিপ সিঁদুর পরার রিতি ওলামা একেরাম ভারতীয় ইসলামের এই মিশ্রন খতম করার যথাসম্ভব চেষ্টা করেছেন।

স্যার রফিউদ্দিন কুরআনের অনুবাদে এবাদতের বিকল্প যে শব্দচয়ন করেছেন তাহলো পূজা যা হিন্দু রীতি নীতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ অষ্টাদশ শতাব্দীতে আঞ্চলিক শব্দ পূজা এবং আরবি শব্দ এবাদাত দুটি একে অপরের পরিপূরক ছিল কিন্তু মাত্র এক শতাব্দি পরে মুসলিমদের পরিস্থিতি মজবুত হতে শুরু করল তখন থেকে আরবি শব্দের ব্যবহার অপরিহার্য হয়ে উঠলো।

ইসলামী ঐক্য ও বিচ্ছিন্নতাবাদী প্রচার এর জন্য দুনিয়ার সবচেয়ে বড় আন্দোলন তবলীগ জমাত ১৯২৭ খ্রিস্টাব্দে একজন দেওবন্দী আলেমে দ্বীন মাওলানা ইলিয়াস কান্ধলভি আরম্ভ করেছিলেন কেননা তার মনে হয়েছিল আমাদের মুসলমানেরা মিশ্র সংস্কৃতির সাথে ভালোভাবেই মিশে আছে।

সৌদি পেট্রো ডলারের মাধ্যমে এই তবলিগী আন্দোলনকে সাহায্য করা হয়েছিল এখন পরিচিত মুসলমান একে অপরের সাথে সাক্ষাতের পর বিদায়কালে খোদাহাফেজ এর পরিবর্তে আল্লাহাফেজ বলার প্রচলন চালু হয়েছে। এখন কোন মুসলিম মহিলাকে বোরকা পরিহিতা বা কোন মুসলিম পুরুষকে চোগাচাপকান পরিহিত অবস্থায় দেখা কোনো বিশেষ ব্যাপার নয়। পশ্চিম এশিয়ায় এ ধরনের পোশাক উপযোগী যেখানে সূর্যতাপ প্রখর রৌদ্র ধুলিঝড় ইত্যাদির হাত থেকে রক্ষা করে কিন্তু কলকাতা জাকার্তা লন্ডন প্যারিস অথবা বোস্টনে এই পোশাকের কি প্রয়োজন এটা এক পতনশীল মুসলিম মনমানসিকতা ছাড়া আর কিছুই নয়।

অন্য ধর্ম আঞ্চলিক ভাষায় ঢলে পড়া সহজ হয়নি কিছু বিশেষ পবিত্রতা নিজেই কিছু ভাষায় সম্পর্কিত হয়ে পড়েছে যেমন বৈদিক সংস্কৃতি হিন্দু ভাইদের নিকট এ পবিত্র, ইবরানী ইহুদীদের জন্য লাতীন পবিত্র এবং ইউনানী ভাষায় বাইবেল কে সংরক্ষিত রাখার জন্য ক্রিশ্চান জগতের মরণপণ প্রচেষ্টা চলেছিল। কেননা শক্তিশালী চার্চ তার প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছিল অবশেষে বাইবেল কে তার নিজের ভাষায় পেশ করে দেওয়াই হল।

ভারতীয় উলামা হযরত গন এই পবিত্র গ্রন্থের উর্দু বা ইংরেজি অনুবাদ কে কোরআন হিসেবে মানতে অস্বীকার করেন মসজিদেও কোরআনের অনুবাদ রাখতে আপত্তি ওঠে কিন্তু ইউরোপ ও আমেরিকায় এরকম করা হয় আসলে এখন বেশিরভাগ ইসলামী বইয়ের অনুবাদ ইন্টারনেটের মাধ্যমে সহজপ্রাপ্য।

দক্ষিণ এশিয়ায় আঞ্চলিক ভাষায় আজান ও নামাজের কখনো কোনো দাবি বা ইচ্ছা প্রকাশ করা হয়নি তবুও মুসলমানরা যে ভাষায় নামাজ আদায় করছেন সেই ভাষা যদি তারা বুঝতে না পারেন তাহলে কিভাবে আল্লাহর নৈকট্য লাভ করতে পারবেন হয়তো তুর্কির আলোচনা আমাদের মন-মগজের জানালা খুলে দেবে।

নোট এই প্রবন্ধটি 9 ফেব্রুয়ারি 2019 সাপ্তাহিক ফার্স্ট পোস্ট নিউ দিল্লি থেকে প্রকাশিত হয়েছে)

English Article: Arabic Imperialism Vs. Islamic Pluralism: Has The Time Come For Islam To Go Local?

বাংলা অনুবাদ: ওয়ালিউর রহমান চাঁদপুরী

URL: http://www.newageislam.com/bangla-section/সুলতান-শাহীন,-ফাউন্ডিং-এডিটর-স-নিউ-এজ-ইসলাম/has-the-time-come-for-islam-to-go-local?-আরব-সাম্রাজ্যবাদ-বনাম-ইসলামী-সংখ্যাধিক্য-সমর্থক-এলাকা-ভিত্তিক-জীবন-ব্যবস্থায়-ইসলামের-উপর-আমল-করার-সময়-কি-আগত?/d/119897

New Age IslamIslam OnlineIslamic WebsiteAfrican Muslim NewsArab World NewsSouth Asia NewsIndian Muslim NewsWorld Muslim NewsWomen in IslamIslamic FeminismArab WomenWomen In ArabIslamophobia in AmericaMuslim Women in WestIslam Women and Feminism




TOTAL COMMENTS:-    


Compose Your Comments here:
Name
Email (Not to be published)
Comments
Fill the text
 
Disclaimer: The opinions expressed in the articles and comments are the opinions of the authors and do not necessarily reflect that of NewAgeIslam.com.

Content